হাওজা নিউজ এজেন্সি: শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর বিচারিক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রধান বিচারপতি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন গোলাম হোসেইন মুহসেনি-এজেয়ির সঙ্গে বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন ক্রাসনভ। বৈঠকে দুই দেশের বিচারিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
ক্রাসনভ বলেন, বর্তমানে ইরান ও রাশিয়া উভয় দেশই ‘অভূতপূর্ব বহিঃচাপ, আন্তর্জাতিক আইনের রাজনৈতিক ব্যবহার এবং অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার’ মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষায় দুই দেশই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ ক্ষেত্রে তারা পরস্পরের সঙ্গে সংহত।
রুশ প্রধান বিচারপতি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই বৈঠকে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিল।
ইরানের ব্রিকসে যোগদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ক্রাসনভ বলেন, ব্রিকসের বিচারিক সহযোগিতায় তেহরানের অংশগ্রহণ দুই দেশের মধ্যে এই ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বৈঠকে ন্যায়বিচারের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়। ক্রাসনভ বলেন, ব্রিকসের বিচারিক সহযোগিতার মূলনীতি হলো সমতা, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং একটি ন্যায়সংগত ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
রাশিয়ান ফেডারেশনের সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ বিচারিক কর্মকর্তারা সীমান্তপারের ব্যবসা ও প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর বিচারিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিচারিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে একটি নির্ভরযোগ্য আইনি কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও দেন ক্রাসনভ। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিচার বিভাগের সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেন।
আপনার কমেন্ট